ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার ৮টি সহজ উপায় (টাকা উপার্জনের কৌশল)

3
540
ছাত্র-জীবনে-টাকা-আয়-করার-৮-টি-সহজ-উপায়-টাকা-উপার্জনের-কৌশল

টাকা উপার্জনের কৌশল অনেক রয়েছে যার মধ্যে একটি হচ্ছে পড়ালেখার পাশাপাশি আয়। অনলাইনে আয় করার জন্য ছাত্র জীবন থেকে শুরু করলে দ্রুত সফলতা আনা সম্ভব। আপনি ইচ্ছা করলে ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করতে পারেন খুব সহজে তার জন্য মোবাইল বা ল্যাপট থাকলেই চলবে আর ইন্টারনেট সংযোগ। ছাত্র অবস্থায় ইনকাম করার জন্য সব চেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে অনলাইনে আয়। ছাত্র জীবনে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা তাদের ছোট খাটো সপ্নগুলোকে পূরণ করতে পারে না শুধু মাত্র পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করতে না পারার কারনে।

সর্বোপরি পরিবার থেকে আর কত সাপোর্ট দিবে। পরাশুনার খরচ দিচ্ছে, থাকা খাওয়ার খরচ দিচ্ছে, জামা কাপড়ের খরচ দিচ্ছে এমন কি টুকটাক পকেট খরচও দিচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে আমরা যে আধুনিক যুগে বসবাস করছি ওই পকেট খরচ দিয়ে চলা সম্ভব না।

আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন এবং আপনিও এ ধরনের পরিস্থিতি ফেস করতেছেন কোনো সমস্যা নেই আজকের এই ব্লগটি আপনার জন্য তৈরি করছি একেবারে শেষ পর্যন্ত পড়বেন কারণ আজকে একটি-দুটি নয় ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার জন্য সহজ ৮টি উপায় বলবো।

যেগুলোর যেকোনো একটিকেও যদি সঠিক ভাবে মেনে চলেন তাহলে পড়া-লেখা করার পাশপাশি এক্সট্রা টাকা ইনকাম করতে পারবেন যেটা ধারা আপনার সপ্নগুলো পূরণ হবে। তাহলে চলোন ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার জন্য আপনি কি কি উপায় ইনকাম ডেভেলপমেন্ট করতে পারেন সেই উপায়গুলো এখন একটি একটি করে বলব।

১। টিউশন দেয়া

পড়ালেখার-পাশাপাশি-আয়

ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার জন্য এটা খুবই কমন একটা উপায়। বিভিন্ন সাবজেক্ট যেমন- অংক, ইংরেজি বা বিজ্ঞান এই ধরনের বিষয়গুলো শেখানোর মাধ্যমে আপনি টিউশনি করতে পারেন এবং সেখান থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

আমি নিজেও যখন কলেজে পড়তাম তখন ক্লাস টু,থ্রি, ফোর,ফাইবের স্টুডেন্টদেরকে পড়াতাম প্রায় ৩-৪ জন স্টুডেন্ট পড়াতাম যার থেকে মাসে প্রায় ৪-৫ হাজার ছাত্র জীবনে টাকা আয় হতো। আমি ২০১৬-১৭ সালের কথা বলতেছি। তখন ৪-৫ হাজার টাকা কিন্তু অনেক কিছুছিল এখন বর্তমান সময় আপনি আরো ভাল করতে পারবেন। তাই ছাত্র জীবনে আয় করার টিউশনি করে বা শিক্ষার্থীদের শেখানোর মাধ্যমে আপনি একটা বাড়তি ইনকাম করতে পারবেন যা ধারা আপনার এক্সট্রা খরচগুলোকে মেইনটেইন করতে পারেন।

২। ফটোগ্রাফি

ফটোগ্রাফি করার মাধ্যমেও আপনি পড়ালেখার পাশাপাশি ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমান সময় দেখবেন এমন কোনো বিয়ে-সাদি বার্থডে বা প্রোগ্রাম নাই যেখানে কোনো ফটোগ্রাফি করা হয় না এবং Photoshoot Studio কিন্তু অনেক ভাল মানের চার্জ করে দশ হাজার, বিশ হাজা, ত্রিশ, পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্তও তারা চার্জ করে থাকে এ ফটোশুটের জন্য। আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার Photographer হিসেবে কাজ করতে পারেন।

পড়ালেখার-পাশাপাশি-ব্যবসা

এই কাজটি কিন্তু একটি ক্রিয়েটিভ এবং অনেক ডিম্যান্ডেবল প্রফেশন। মানুষ তাদের স্পেসিয়াল মুহুর্তগুলোকে ক্যামেরা বন্ধি করে রেখে দিতে চায় সৃতি হিসাবে। এছাড়াও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাদের সুন্দর সুন্দর ছবি আপলোড করার জন্য অনেক সময় ফটোগ্রাফার দের খুজে থাকে।

তাদেরকে আপনার ফটোগ্রাফি সার্ভিসটি অফার করতে পারেন যেটার মধ্যমে খুব ভাল মানের উপার্জন করতে পারবেন। এ কাজটি করার জন্য একটি Dslr Camera প্রয়োজন হবে পাশাপাশি এ ছবিগুলো তুলার পরে এডিটিং করে আরো একটু এট্রাক্টিভ করে তোলার প্রয়োজন হবে।

এর জন্য আপনি ফটোশপের বেসিক ব্যবহারগুলো শিখে নিলেন কি ভাবে Image Editor করতে হয়। এই ধরনের ইমেজ এডিটিং এর টিউটোরিয়াল ইউটিউবে অনেক পাবেন । কারণ আপনের ক্লানেটের জন্য ছবিগুলোকে আরেকটু ঘষা মাজা করে আরো আকর্ষণীয় করে দিলে ক্লায়েন্টরা অনেক খুশি হবে এবং পরবর্তিতে দেখা যাবে তারাও তাদের ফ্রেন্ডস সার্কেল বন্ধু বান্ধবকে আপনাকে রিকোমেন্ট করছে। এতে করে আপনার আরো বেশি ক্লায়েন্ট তৈরি হবে।

ফেইসবুকে একটি বিজনেস পেইজ তৈরি করে সেখানে আপনার তোলা ছবিগুলোকে সুন্দর করে এডিটিং করে একটা সুন্দর চেহারা ছবি দিয়ে সেখানে আপলোড করে দিতে পারেন এবং ফোন নাম্বার দিয়ে দিতে পারেন যে আপনি ফটোগ্রাফি সার্ভিস  দিচ্ছেন কারণ যদি প্রয়োজন হয় আপনার সাথে কন্টাক্ট করতে পারবে।

৩। ইউটিউবিং

পড়াশোনার-পাশাপাশি-আয়

ইউটিউবে একটি Channel তৈরি করতে পারেন এবং আপনি যে বিষয়গুলো জানেন সে বিষয়গুলোর উপরে ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে পারেন। আমরা সবাই কিন্তু টুকটাক অনেক কিছু জানি একটি স্মার্টফোন কী ভাবে ব্যবহার করতে হয় এন্ড্রয়েডের বিভিন্ন ট্রিকস এন্ড টিপস এছাড়াও বিভিন্ন বিষয় Tutorial তৈরি করা যেতে পারে।

অথবা যেকোনো বিষয়ের উপরে যেটা আপনার ভাল লাগে সে বিষয়গুলোর উপর ভিডিও তৈরি করে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে দিতে পারেন। এতে করে সেই ভিডিও যখন ভিউ হবে সেখান থেকে বিভিন্ন উপায় আপনার ইনকাম হবে। আর এই ভিডিও প্লাটফর্মটির সম্পর্কে এখন কে না জানে, সবাই জানে যে এখান থেকে খুব দারুণ ভাবে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করা যায়।

আপনার লেখাপড়া করার পড় এক্সট্রা যে সময়গুলো হাতে থাকে সে সময়গুলোকে ব্যবহার করে আপনার চ্যানেলের জন্য ভিডিও তৈরি করতে পারেন সেই ভিডিও গুলো আপলোড করে অনলাইন ইনকাম করতে পারবেন।

৪। লেখা-লেখি করা

পড়ালেখার-পাশাপাশি-কি-করা-যায়

আপনার যদি লেখা-লেখি করতে ভাল লাগে তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস নামক সফটওয়্যার দিয়ে একটি ওয়েবসাইট সেটআপ করে ফেলতে পারেন এবং সেখানে পছন্দের বিষয়গুলো বা যে বিষয়গুলো জানা আছে সে বিষয়গুলোর উপরে লেখা-লেখি করে ব্লগিং শুরু করে দিতে পারেন।

ঠিক ইউটিউবের মত ইউটিউবে যেমন আপনের পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে ভিডিও তৈরি করে আপলোড দিতে পারেন ঠিক একই ভাবে নিজের একটি ওয়েবসাইট Setup করে সেখানে পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে লেখা-লেখি করতে পারবেন। এবং সেই ওয়েবসাইট থেকেও আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যেটা ধারা নিজের স্বপ্নগুলোকে চাইলে পূরণ করতে পারেন। আমি নিজেও Blogging করছি পাশাপাশি ইউটিবেও Video Upload করছি।

৫। ওয়েবসাইট ডিজাইন

লেখাপড়ার-পাশাপাশি-ব্যবসা

প্রায় প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানেরি একটা ওয়েবসাইটের প্রয়োজন পরে তাদের প্রোডাক্ট সার্ভিস গুলোকে অনলাইনে প্রদর্শন করার জন্য। কারণ এখন মানুষ সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট তৈরি করার সফটওয়্যার।

আপনি যদি পড়াশুনা করার পাশাপাশি এই সফটয়্যারটির ব্যবহার পুরোপুরি শিখে নিতে পারেন তাহলে এই সফটওয়্যার ধারা দারুণ সব ওয়েবসাইট ডিজাইন  করতে পারবেন। যেই স্কিলটাকে আপনি পরবর্তিতে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে Sell করতে পারেন।

যেমনঃ ফাইভার, আপওয়ার্ক এবং ফ্রিল্যান্সার আছে এই ধরণের মার্কেটপ্লেসে ওয়েব ডিজাইন সার্ভিস দেওয়ার মাধ্যমেও খুব ভাল মানের একটি আয় করতে পারবেন। বাংলাদেশে অনেক ফ্রিল্যান্সাররাই এই ওয়ার্ডপ্রেসকে ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী Freelancing করছে।

৬। গ্রাফিক্স ডিজাইন

গ্রাফিক্স ডিজাইন এমন একটি প্রফেশন যেটার Demand দিন দিন শুধু বাড়তেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে দেওয়ার মাধ্যমেও লেখাপড়া করার পাশাপাশি আলাদা ভাবে উপার্জন করা যায়। এছাড়াও এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচুর কোম্পানি তাদের Facebook Page ওপেন করতেছে এবং সেই পেইজ গুলোর জন্য তাদের ব্যানার,পোস্টার,লোগো এই জিনিস গুলোর ডিজাইন করার প্রয়োজন হয়। যার জন্য তারা এই ডিজাইনারদেরকে খুঁজে থাকে এই বিষয়গুলোতে সাহায্য নেওয়ার জন্য।

ছাত্র-জীবনে-আয়

আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে নিতে পারেন এবং সেটা ধারা বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস সহ ফেইসবুকের মাধ্যেও একটা বিজনেস পেইজ তৈরি করে সেটার মধ্যমে আপনার সার্ভিসগুলোকে অনালাইন বিক্রয় করতে পারবেন এবং এখান থেকে প্রচুর টাকা ইনকাম করা যায়।

৭। ভিডিও এডিটিং

ভিডিও এডিটিং এর বর্তমান সময় প্রচুর চাহিদা। এই কাজ শিখে নিতে পারলে অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেমনঃ ফাইবার এখন বর্তমান সময় সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস, এই মার্কেটপ্লেসে ভিডিও এডিটিং এর সার্ভিস আপনি দিতে পারেন এতে ভাল ডলার আয় করতে পারবেন।

এছাড়াও বর্তমানে ইউটিউবের যুগ ইউটিউবে লক্ষ কোটি চ্যানেল আছে এই চ্যানেলগুলোতে আপনি ভাবতেও পারবেন না যে একাধিক ভিডিও এডিটর নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষ করে বড় বড় চ্যানেলগুলোতে যে চ্যানেলগুলোতে কয়েক মিলিয়ন সাস্ক্রাইবার থাকে এবং এই চ্যানেল গুলোর যে মালিক থাকে তারাও বিভিন্ন দক্ষ ব্যক্তি এবং ভিডিও এডিটিং দেরকে সহযুগিতা করার জন্য তাদেরকে হায়ার করে থাকে।

ছাত্র-অবস্থায়-ব্যবসা

আপনি যদি ইউটিউবের জন্য কমপ্লিট ভিডিও তৈরি করতে নাও পারেন কিন্তু ভিডিও এডিটিং শিখে রাখতে পারেন তাহলে যে ইউটিউবার’রা ভিডিও তৈরি করছে তাদেরকে আপনি কমিশনের বিনিময় সহযুগিতা করতে পারেন ভিডিও এডিট করে দেওয়ার জন্য। এর মাধ্যমে আপনি খুব দ্রুত কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাবেন আসা করছি।

৮। অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করা

আপনি যদি কোনো Product তৈরি করতে পারেন সেটা Facebook Business Page এর মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করতে পারেন যেটাকে পেইড মার্কেটিং বলে। যেমনঃ ফেইসবুক বুস্ট পোস্টিং করতে পারেন এটার মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করে সেখান থেকে ইনকাম করতে পারবেন। আবার যদি কোনো প্রোডাক্ট তৈরি করাতে না পারেন তাহলে হোল সেলে কোনো পণ্য এনে খুচরা সেল করতে পারেন এবং প্রেত্যেকটা Sell থেকে আপনি একটা নির্দিষ্ট কমিশন পাবেন।

পড়াশোনার-পাশাপাশি-কি-করা-যায়

মানুষের দৈনন্দিন জীবনে হাজারও পণ্য প্রয়োজন পরে। অনলাইনে জনপ্রিয় যে মার্কেটপ্লেস গুলো আছে ইন্টারন্যাশনাল বা লোকাল এগুলো একটু ভাল মত ভিজিট করে একটা প্রোডাক্ট আইডিয়া  খুঁজে বেড় করতে পারেন, যে পণ্যটি মানুষ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতে পারে এবং তাদের জীবন ধারার মানকে আরো সহজ করে দিতে পারে।

এখন এ ধরণের প্রচুর পণ্য পাওয়া যায় অনেক চাইনিস প্রোডাক্ট আছে মার্কেটে যারা হোল সেলে বিক্রি করতেছে। আপনিও তাদের মত করে হোল সেল থেকে পণ্য খুচরা বিক্রয় করতে পারেন এবং ভাল মানের ইনকাম করতে পারেন।

টাকা উপার্জনের কৌশল আরো অনেক ধরণের আছে যেটা বললে আপনি বোরিং হয়ে যাবেন। তাই আমি মাত্র ৮টি উপায় বলে দিলাম এগুলোর কোনো একটিকেও সঠিক ভাবে ইমপ্লেমেন্ট করলে কিন্তু আরো Result পাবেন। এবং আপনার যে ছোট ছোট স্বপ্ন গুলো পূরণ করতে পারছেন না আপনের স্বপ্ন গুলোকে খুব সহজেই পূরণ করতে পারবেন।

আমি অবশ্যই বলব এই একটা কাজও কোন Shortcut উপায় না অবশ্যই আপনাকে কিছুটা পরিশ্রম করতে হবে। যদি মনোযোগ দিয়ে যেকোনো একটিকেও চেষ্টা করেন দেখবেন আপনি একটা দারুণ রেজাল্ট পাচ্ছেন।

খুব শীঘ্রই পরবর্তি নতুন কোনো তথ্য নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here