ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ওয়েব ডিজাইন শেখার জন্য কি কি প্রয়োজন?

0
271

আপনি কি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখতে চান? আমি এখন আপনাকে বলব ওয়েব ডেভেলপমেন্ট হওয়ার জন্য কোন কোন বিষয় গুলো আপনার শিখতে হবে ,শুধু তাই নয় এই পোস্ট শেষে আমি আপনাকে বলব এর পর কি কি সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়ে যাবে এবং কিছু সংস্থান দিয়ে দিবো যেই রিসোর্স গুলো ব্যবহার করে ওপেব ডেভেলপমেন্ট শেখার জার্নি শুরু করে দিতে পারবেন।

ওয়েব ডেভেলপমেন্টরা মূলত কি করে থাকে?

ওয়েব ডেভেলপমেন্টরা বেসিক্যালি ওয়েব অ্যাপ বা ওয়েব সাইট তৈরি করে থাকে। আপনি অনলাইনে যত ধরনের ওয়েবসাইটে ভিজিট করছেন সব গুলো ওয়েব অ্যাপ বা ওয়েব সাইট যেমন প্রথম আলো ডট কম,ফেইসবুক ডট কম,ইউটিউব ডট কম ইত্যাদি।

web developers guidline

একটি ওয়েব সাইট বা অ্যাপের মূলত দুইটি অংশ থাকেঃ-

  1. ডিজাইন
  2. ডেভেলপমেন্ট

ব্যবহারকারীরা সাধারণত ডিজাইনটা দেখতে পারে কিন্তু ওয়েব ডেভেলপমেন্ট দেখতে পারে না। সবচেয়ে কমন একটি এক্সাম্পল হচ্ছে ইউটিউব- আপনি যে ইউটিউব ভিডিওটি দেখবেন সেখানে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, সাবস্ক্রাইব বাটন গুলো দেখতে কেমন এগুলো হচ্ছে ডিজাইন।

কিন্তু যখন লাইক বাটনটা ক্লিক করছেন, একটা কমেন্ট করছেন এইযে কমেন্টটা সেভ হয়ে যাচ্ছে, একটা লাইক কাউন্ট বেড়ে গেছে এইটা হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট।

আপনি যখন লাইক বাটনটায় হিট করছেন এই লাইকটা ইউটিউবে ডাটা বেজে গিয়ে সেভ হচ্ছে। ডাটা বেজ মানে হচ্ছে মেমোরি কার্ডের মতো, মেমোরি কার্ডে আপরা যেমন গান, ছবি সেভ করে রাখতে পারি, ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট গুলো ডাটা বেজে গিয়ে সেভ হয়ে থাকে।

বেসিক্যালি ইউজাররা যেকোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপের উপরে ডিজাইনটা দেখে থাকে কিন্তু যে কাজ গুলো হয়ে এগুলো হচ্ছে সেটা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট  এর অংশ (Part) যেটা দেখা যায় না।

চলুন এখন আপনাকে বলি কি কি ধরণের ওয়েব ডেভেলপার হয়। মূলত ৩ ধরনের ওয়েব ডেভেলপার থাকে।

  1. ফ্রন্ট ইন্ড ডেভেলপার (front end developer)
  2. ব্যাক ইন্ড ডেভেলপার (back end developer)
  3. ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার (full stack developer)

১। ফ্রন্ট ইন্ড ডেভেলপার কি?

front end developer

ফ্রন্ট ইন্ড ডেভেলপাররা  মূলত ডিজাইনার তারা অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ডিজাইন করে থাকে ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর বা স্কেচ অ্যাপ ব্যবহার করার মাধ্যমে এবং সে ডিজাইনকে তারা স্ট্যাটিক, এইচটিএমএল, সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট কোডে কনভার্ট করে যেটা ফাংশনাল না।

২। ব্যাক ইন্ড ডেভেলপার কি?

back end developer

ব্যাক ইন্ড ডেভেলপারদেরও ফ্রন্ট ইন্ড ডেভেলপার সম্পর্কে জ্ঞ্যান থাকতে হয়। কিন্তু ব্যাক ইন্ড ডেভেলপাররা সাধারণত ডিজাইনের পার্টটা করে না। তারা ফ্রন্ট ইন্ড ডেভেলপারের কাছ থেকে স্ট্যাটিক কোডগুলো নিয়ে সেটাকে ডায়ানামিক করে অর্থাৎ একটা ওয়ার্কিং ওয়েবসাইট (Working Website) বা অ্যাপে পরিণত করে যেটার একটা অ্যাডমিন পেনেল থাকে, যেখান থেকে একটি ওয়েবসাইটের যাবতীয় সমস্ত কনটেন্ট পরিবর্তন করা যায় বা নতুন কনটেন্ট যুক্ত করা যায়।

এই পরিস্থিতিতে (Situation) একজন ব্যবহারকারীকে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটটি  পরিবর্তন করার জন্য আর কোডিং নলেজের প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ ব্যাক ইন্ড ডেভেলপারের কাজ হচ্ছে ফ্রন্ট ইন্ড ডেভেলপাররে স্ট্যাটিক অ্যাপটিকে নিয়ে টুটালি ফাংশনাল করে ফেলা।

৩। ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার কি?

ফুল স্ট্যাক ডেভেলপাররা মূলত সবদিকে দক্ষ (Allrounder)। তারা ডিজাইনও করে থাকে ডেভেলপমেন্টও করে থাকে। অর্থাৎ একটা অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে শুরু থেকে শেষ পর্জন্ত তাদের সব দিকে নলেজ আছে এবং সম্পূর্ণ কাজ তারা একাই করে থাকে।

যেখানে একজন ফ্রন্ট ইন্ড ডেভেলপার শুধু মাত্র অ্যাপের ডিজাইনটা করে থাকে সেটাকে কোডিং এ কনভার্ট করে এবং ব্যাক ইন্ড ডেভেলপার সেই ডিজাইনারের কাছ থেকে স্ট্যাটিক কোডগুলো নিয়ে সেটাকে ডায়নামিক (Diynamic) এবং ওয়ার্কিং অ্যাপে পরিণত করে। কিন্তু ফুল স্ট্যাক ডেভেলপাররা অলরাউন্ডার তারা ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট দুইটা একসাথে করে থাকে।

full stack developer

এখন আপনার মধ্যে প্রশ্ন আসবে, তাহলে আমি ফ্রন্ট ইন্ড আর ব্যাক ইন্ড ডেভেলপার (Back End Developer) কেন হব আমি ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার কেন হব না। অবশ্যই আপনি ফুল স্ট্যাক Web Developer হওয়ার চেষ্টা করবেন কিন্তু সবকিছু একা করতে গেলে অনেক সময় লেগে যায় আপনি ডিজাইনিং (Designing) করবেন, ডেভেলপমেন্টও করবেন আবার সফটওয়্যার কিছু মেইনটেনেন্সও করতে হয়।

সব কিছু যদি একা করতে জান সেইক্ষেত্রে আপনার প্রচুর সময় লাগবে একটা প্রজেক্ট কমপ্লিট করতেই। এজন্যই ওয়েব ডেভেলপমেন্টরা দল বেঁধে কাজ করে এবং একেকজন একেক বিভাগ (Department) ভাগ করে নিয়ে একটা প্রজেক্ট কমপ্লিট করে।

এখন চলুন Web Developer হওয়ার জন্য কোন কোন প্রোগ্রামিং ভাষা গুলো আপনাকে শিখতে হবে সেটা আপনাকে বলে দেই যেকোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা দ্বারা। আপনার স্মার্ট ফোনে  যত অ্যাপস (Apps) আছে যত ওয়েবসাইট ব্যবহার করছেন এবং ইউটিউব দেখছেন এই সব কিছুই তৈরি করা হয়েছে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং দিয়ে।

শুরুতেই যে ল্যাংগুয়েজ শিখতে হবে সেটা হচ্ছে HTML, এটা একটি মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ এটা দিয়ে শুধু মার্ক করা হয় একটা ওয়েবপেইজকে কোথায় একটা ওয়েবসাইটের হেডার সেকশন হবে সাইডবার,ফুটার ইত্যাদি কোথায় কি ভাবে হবে এই বিষয় গুলো মার্ক করা হয় এই HTML Language দিয়ে। HTML টা শিখবেন একটা ওয়েব পেইজের বিভিন্ন অংশকে ভাগ করার জন্য যে কোথায় কোন কন্টেন্ট গুলো ডিসপ্লে হবে।

পরবর্তি ভাষাটি হচ্ছে CSS, এটা দ্বারা HTML দিয়ে যেই প্লেস (Place) গুলো মার্ক করেছেন ওয়েবপেইজের সেগুলোকে ডিজাইন করবেন জেন ওয়েব পেইজটি দেখতে খুব সুন্দর মনে হয়।

HTMLCSS এর পরেই শিখতে হবে Javascript & Jquery, এটা দিয়ে একটা ওয়েবসাইটকে ইন্টারেকটিভ করা হয় যেমন- ফেইসবুক। এইখানে আপনি যখন পোস্ট করেন সেই পোস্টে কেউ লাইক করলে বা কমেন্ট করলে আপনার কাছে একটা নোটিফিকেশন (Notification) চলে আসে।

এইযে নোটিফিকেশনটা আসতাছে এইটাই হচ্ছে ইন্টারএক্টিভিটি যেই জিনিস গুলো জাভাস্ক্রিপ্ট জেকুয়েরি দিয়ে করা হয়। আপনি যখন ওয়েবসাইট তৈরি করবেন এখানে বিভিন্ন রকমের স্লাইডশো যুক্ত করবেন এবং বিভিন্ন রকম ইন্টারএক্টিভিটি যুক্ত করবেন। সেগুলো যক্ত করার জন্য Javascript & Jquery শিখবেন।

তারপরে যে বিষয়টি শিখতে হবে Responsive Design Fundamentals. একটি ওয়েবসাইট ভিজিটররা বিভিন্ন ডিভাইস (Device) থেকে ভিজিট করে থাকেন ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, স্মার্ট ফোন বা ট্যাবলেট থেকেও ভিজিট করে। ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট গুলো জেন সব ডিভাইসেই সুন্দর ভাবে দেখা যায় তাই এটাকে রেস্পন্সিভ করতে হয়।

এরপরে আপনাকে শিখতে হবে Bootstrap. এটা অনেক জনপ্রিয় একটি Front End Framework. বিভিন্ন ক্লায়েন্ট এবং কোম্পানিরা এ ফ্রেমওয়ার্কটি (Framework) ব্যবহার করার জন্য রিকুমেন্ট করে তাদের প্রজেক্টের জন্য। এরজন্য এই ফ্রেমওয়ার্কটি ভাল ভাবে শিখতে হবে।

এগুলো শেখার পর একটি Server Side Scripting Languages শিখতে হবে জেন আপনার ডিজাইন করা অ্যাপ ওয়েবসাইটটিকে আপনি ডায়নামিক এবং ফাংশনাল করতে পারেন। অনেক গুলো সার্ভার সাইড স্ক্রিটিং ল্যাংগুয়েজ আছে যেমন- PHP, RUBY, PYTHON, NODE JS যেকোনো একটাকে ফিক্সড করে সেটা নিয়ে কাজ শুরু করবেন সব গুলো একসাথে শিখতে যাবেন না তাহলে কোনোটাই শিখতে পারবেন না।

আমি যেমন- PHP নিয়ে কাজ করেতছি PHP ওয়ার্ল্ডের অনেক বড় বড় কোম্পানি ব্যবহার করছে যেমন- Yahoo, Wikipedia, Facebook অন্যান্য ল্যাংগুয়েজ গুলোও জনপ্রিয় এবং অনেক বড় বড় কোম্পানি ব্যবহার করছে।

PHP, RUBY, PYTHON, NODE JS

সার্ভার সাইড ল্যাংগুয়েজ পিএইচপি শেখার পরে শিখবেন WordPress Or Laravel । পুরো অনলাইন জগতে যত ওয়েবসাইট আছে তার ৩০%-৪০% ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি হচ্ছে এবং যতগুলো ই-কমার্স ওয়েবসাইট আছে অনলাইনে তার মধ্যে প্রায় ৬০% ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও-কমার্স দিয়ে চলছে যেটা ওয়ার্ডপ্রেসেরি একটি প্লাগইন।

ওয়ার্ডপ্রেসের একটা বড় মার্কেট আছে অনলাইনে যেটার উপরে প্রচুর কাজ পাওয়া যায়, পিএইচপির পরে ওয়ার্ডপ্রেসটি শিখে নিলে আপনার জন্য আরো সুযোগ-সুবিধা বেড়ে যাবে।

ওয়ার্ডপ্রেসেরের পাশাপাশি আরেকটি জনপ্রিয় (Popular) ফ্রেমওয়ার্ক হচ্ছে লারাভেল (Laravel)। আপনি হয় ওয়ার্ডপ্রেস শিখবেন নয় লারাভেল শিখবেন। তো আমি রিকুমেন্ট করছি ওয়ার্ডপ্রেস শেখার জন্য কারণ এটার মার্কেটটা অনেক বড়।

পরবর্তিতে যে বিষয়টি শিখতে হবে সেটা হচ্ছে GIT এটি হচ্ছে একটি সফটাওয়্যার ভার্সন কনট্রোল সিস্টেম (Software Version Control System )। যেকোনো সফটাওয়্যারকে নিয়মিত আপডেট করতে হয় ওই সফটাওয়্যারকে ব্যবহার কারিরদের আরো আগ্রহী করার জন্য। তাই গিট শিখলে আপনার তৈরি করা অ্যাপ বা ওয়েবসাইট কনট্রোল (Website Control) করতে পারবেন।

গিট শেখার আরো একটি সুবিধা হচ্ছে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই আপনি থাকেন না কেন আপনের টিমের সাথে রিমোটলি কাজ করতে পারবেন। আর এটা না শিখলে আপনের অফিসে বা বাসায় যেখানে বসে কাজ করছেন ওখানেই আপনি লক হয়ে যাবেন। অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে এবং অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাবে, যেটা গিট (GIT) শিখলে আপনার অনেক সময় বেঁচে যাবে। তাই প্রোগ্রামিং করলে অবশ্যই গিট শিখে নিতে হবে।

পরবর্তি বিষয়টি হচ্ছে UI/UX ডিজাইন। এর মানে হচ্ছে সফটাওয়্যারের ডিজাইন করা PHOTOSHOP, ILLUSTRATOR বা Sketch এর মত অ্যাপ ব্যবহার করে সফটাওয়্যার ডিজাইন করা হয়। অনেকে শুধু মাত্র ইউআই/ইউএক্স ডিজাইনি শিখে আর কোডিংটা শিখে না আবার অনেকে শুধু মাত্রা কোডিংটা শিখে কিন্তু ইউআই/ইউএক্স  শিখে না।

কিন্তু আপনি যদি একজন Dedicated Front End Developer হতে চান তাহলে আপনি দুইটাই শিখবেন কারণ কিভাবে ডিজাইনটাকে কোডিং এ কনভার্ট করতে হয় সেটাও শেখাটা জরুরি। এতে করে অন্যদের থেকে আপনার ভ্যালু থাকবে কয়েকগুণ বেশি।

ui/ux design

তাই যদি Dedicated Front End Developer হতে চান ইউআই/ইউএক্স ডিজাইনও শিখবেন সাথে ওটাকে কি ভাবে কোডিং এ কনভার্ট করতে হয় সেটাও শিখবেন। আর যদি Back End Developer হন তাহলে ইউআই/ইউএক্স ডিজাইন শেখার কোনো প্রয়োজন নেই।

সেই ক্ষেত্রে স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজের প্রতি সব থেকে বেশি কন্সেন্ট্রেসন করবেন যেমন- PHP, RUBY বা PYTHON এগুলো। কিন্তু বেসিক যে ফ্রন্ট ইন্ড ল্যাংগুয়েজ  গুলো আছে HTML, CSS, Javascript এগুলোও আপনাকে সাথে জানতে হবে।

ফুল স্ট্যাক ডেভেলপার  (Full Stack Developer) মানে ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সবই পারে মানে অল ইন ওয়ান পাশাপাশি এক্সট্রা হিসাবে বেসিক এসইও সম্পর্কে একটা ধারণা নিবেন। একটা ওয়েবসাইটকে গুগল র‍্যাংকিং এ আনার জন্য সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সে ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট  কিন্তু তারপরেও সেই ওয়েবসাইটটাকে কি ভাবে কোডিং করা হয়েছে সেটার উপরেও র‍্যাংকিং অনেকটাই ডিপেন্ড করে।

আপনি যদি আপনার ক্লায়েন্ট বা কোনো কোম্পানির জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেন অবশ্যই সেটাকে এসইও ফ্রেন্ডলি করতে হবে জেন গুগল র‍্যাংকিং এর জন্য ক্লায়েন্টের সাইটটি চলে আসে। এর জন্য SEO FRIENDLY HTML TAG গুলো কোথায় ব্যবহার করবেন এ বিষয়টা সম্পর্কে আপনার ধারনা থাকা উচিৎ বিশেষ করে HEADING TAG, SUBHEADING TAG এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ এসইও করার জন্য।

PHOTOSHOP সম্পর্কেও আপনাকে একটা বেসিক নলেজ থাকতে হবে যে ইমেজ থেকে কি ভাবে বিভিন্ন অংশকে কাট বা ক্রপ নিতে হয়। আপনি ফ্রন্ট ইন্ড ডেভেলপার বা ব্যাক ইন্ড ডেভেলপার হন আপনের PHOTOSHOP সম্পর্কে একটা বেসিক নলেজ নিতে হবে। জেন ডিজাইনাররা ডিজাইন সাবমিট করলে সেখান থেকে বিভিন্ন এলিমেন্ট গুলোকে আলাদা আলাদা করে নিতে পারেন এবং সেগুলোকে সফটওয়্যারে ইন্ডিকেট করতে পারেন।

এখন চলুন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট করার পর কি কি সুযোগ-সুবিধা আপনার জন্য তৈরি হয়ে যাবে সেই বিষয় গুলো নিয়ে কথা বলি।

১। আপনি বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানি বা টেকনোলোজি কোম্পানি গুলোতে কাজ করতে পারবেন একজন Web Developer হিসাবে। সেই কোম্পানির ওয়েবসাইট গুলো ব্যবস্থাপনা (Management) করে দিবেন অথবা সেই কোম্পানির ক্লান্টেদের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট তৈরি করে দিবেন।

২। ফ্রিল্যান্সিং

কম্পিউটার প্রোগ্রামারদের অনলাইনে প্রচুর চাহিদা (Demand)। এমন কোনো কোম্পানি নেই যাদের ওয়েবসাইটের প্রয়োজন নেই, প্রায় ছোট বড় মাঝারি সব ধরণের কোম্পানিরই ওয়েবসাইট বা অ্যাপের প্রয়োজন। অনলাইনে তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস গুলোকে উপস্থিত করার জন্য ক্রেতাদের কাছে বিক্রয় করার জন্য।

ফ্রিল্যান্স নগরচত্বর (Marketplace) গুলোতে ওয়েব ডেভেলপমেন্টদেরপ্র চুর ডিমান্ড। আপনি একজন ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভেলপমেন্ট  হিসাবেও বিভিন্ন কোম্পানিকে সহযোগিতা করার মধ্যমে অনলাইনে ধারুন ক্যারিয়ার ডেভেলপ করতে পারেন।

৩। আপনি নিজেই আপনের সফটওয়্যার কোম্পানি আরম্ভ (Company Launch) করতে পারেন। এবং সফটওয়্যার রিলেটেড সার্ভিস গুলো বিভিন্ন কোম্পানিকে অফার করতে পারেন। যেমন- আমি এই তিন নাম্বার অপশনটি কাজ করতেছি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (web development) সার্ভিস অফার করে থাকি পুরো বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানিকে।

অপরচিউনিটির কোনো অভাব নাই আপনাকে শুধু কাজটা গুরুত্ব সহকারে শিখতে হবে। আপনের সুবিধার জন্য কোন ল্যাংগুয়েজ গুলো পর্যায়ক্রমে শিখবেন আমি আবারো একবার বলে দিচ্ছি- HTML, CSS, Javascript & Jquery, Responsive Design Fundamentals, Bootstrap, PHP, RUBY, PYTHON, NODE JS, WordPress Or Laravel, GIT, UI/UX DESIGN এবং অবশ্যই BASIC SEO, BASIC PHOTOSHOP.

এখন চলুন আপনাকে আমি কিছু সংস্থান দিয়ে দেই যে সংস্থান গুলো আপনি ব্যবহার করে আপনার ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্যারিয়ারটি শুরু করে দিতে পারেন।

বাংলাদেশে আমার সব চেয়ে পছন্দের দুইজন লেখক হচ্ছে ঝংকার মাহবুব এবং তামিম শাহরিয়ার সুবিন । ওনাদের প্রোগ্রামিং কিছু বই আছে সেই বই গুলো পরার মধ্যমে প্রোগ্রামিং সম্পর্কে যথেষ্ট ভাল জ্ঞ্যান অর্জন করতে পারেন। HTML, CSS, Javascript & Jquery, Bootstrap এগুলো শেখার পরে স্ক্রিপটিং ল্যাংগুয়েজ শিখতে হবে যেমন- PHP, PYTHON এগুলো।

PHP, PYTHON শেখার পূর্বে আমি রিকুমেন্ট করব সি প্রোগ্রামিংটা শিখবেন কারণ C PROGRAMMING হচ্ছে প্রোগ্রামিং এর মাদার ল্যাংগুয়েজ। এটার সম্পর্কে একটা ধারণা নিয়ে নিতে পারলে পরবর্তিতে যে কোনো ল্যাংগুয়েজ আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। এবং তামিম শাহরিয়ার সুবিনের একটা সম্পূর্ণ ফ্রি সি প্রোগ্রামিং এর বই আছে যেটা খুবই সহজ ভাবে লিখেছে আমি নিজেও ওই বইটা পড়ে অনেক উপকৃত হয়েছি।

আপনার জন্য আরেকটি দলের কর্মপন্থা (Platform) আছে যেটা আমি অবশ্যই রিকুমেন্ট করব তবে এটার জন্য আপনাকে ইংরেজিতে কিছুটা এক্সপার্ট থাকতে হবে ইংরেজি বুঝার ক্যাপাসিটি থাকতে হবে। কারণ এই প্লাটফর্মে সমস্ত লিসেন গুলো ইংরেজিতে। আর সেই প্লাটফর্মটির নাম হচ্ছে TEAMTREEHOUSE

এটা খুবই অসাধারণ একটি প্লেস এখানে কি শিখতে চান অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট, আইওএস ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট প্রায় সব বিষয়ের জন্য ভিডিও কোর্স পাওয়া যায় যদিও প্রতি মাসে আপনাকে ত্রিশ ডলারের (Thirty Dollars) মত পারিশ্রমিক করতে হবে এবং প্রত্যেকটা লিসেনই ইংরেজিতে এবং টিচাররা ব্রিটিশ ইংলিশে কথা বলে থাকে।

বাংলাদেশি বা এশিয়ানদের জন্য ব্রিটিশ (British) বুঝাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। যদি ইংরেজিতে কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে টিম ট্রি হাউজ থেকে সাবস্ক্রিপশন নিয়ে তাদের ভিডিও গুলো দেখতে পারেন।

প্রোগ্রামিং এর উপরে খুবই দারুন টিউটোরিয়াল তাদের দলের কর্মপন্থা্নে (Platform) আছে। আর যদি ইংরেজিতে সমস্যা হয় তাহলে আপনি অবশ্যই ঝংকার মাহবুব এবং তামিম শাহরিয়ার সুবিনের যে বই গুলো আছে সেই গুলো পড়বেন প্রোগ্রামিং সম্পর্কে অনেক কিছু শিখে ফেলতে পারেবন।

এখন আমি আপনের সাধারণ (Common) কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিব আমি জানি আপনি কমেন্ট সেকশনে জিজ্ঞেস করবেন আমি আগেই এই উত্তর গুলো দিয়ে দিচ্ছি যে এই বিষয় গুলো শিখতে কত দিন সময় লাগতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে আপনি যতটুক সময় এই মুহুর্তে বিনিয়োগ (Invest) করবেন এই বিষয় গুলো শেখার পেছেনে তত দ্রুতই আপনি শিখে নিতে পারবেন। আমি যেমন জবের পাশাপাশি এই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ গুলো শেখা শুরু করেছিলাম এবং প্রতিদিন (Everyday) চার পাঁচ ঘন্টা করে মনোযোগ সহকারে আমি পড়াশুনা করতাম এগুলো নিয়ে এবং এতে করে আমার প্রায় দুই বছরের মত সময় লেগেছে এই বিষয় গুলো শিখতে।

পরবর্তি প্রশ্নটি হচ্ছে এই বিষয় গুলো শেখার জন্য কি সিএসসি ব্যাকগ্রাউন্ডের (CSC Background) প্রয়োজন আছে কি না?

অবশ্যই না আপনার সিএসসি ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রয়োজন নেই এই ভাষা গুলো শেখার জন্য। টিম ট্রি হাউজ ডট কম এই প্লাটফর্মে গিয়ে যেকোনো বিষয়ের উপরে প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করতে পারেন। যেই বই গুলো আমি রিকুমেন্ট করলাম সে বই গুলো আজকেই বাজার থেকে নিয়ে এসে সেগুলো পড়ে প্রোগ্রামিং ক্যারিয়ার শুরু করে দিতে পারেন সিএসসি ব্যাকগ্রাউন্ডের কোনো প্রয়োজন নেই।

যদি ননসিএসসি ব্যাকগ্রাউন্ড (Non-CSC Background) থেকেও হন তাতেও কোনো সমস্যা নেই আপনি অবশ্যই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিখতে পারবেন অবশ্যই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বা এন্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট যে কোনো সেক্টরেই ক্যারিয়ার ডেভেলপ করতে পারবেন।

পরের প্রশ্নটি হচ্ছে Lifestyle Expectations?

আফটার অল আপনি কোনো কাজ শিখবেন সেটার সেটার লাইফস্টাইল এক্সপেকটেশনটা জেনে রাখাটা ভাল। আপনি বাংলাদেশি কোনো সফটওয়্যার বা টেক কোম্পানিতেও যদি জব করেন তাহলেও ৫০-৭০ হাজার টাকার আশেপাশে একটা সেলারি এক্সপেকটেশন রাখতে পারবেন।

আর যদি ইন্টারন্যাশনাল কোনো কোম্পানিতে জব করেন বা কন্ট্রাকে কাজ করেন সেক্ষেত্রে দুই থেকে পাঁচ, সাত হাজার ডলার পর্যন্ত ইনকাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটা কোনো ফিক্সড না জাস্ট আপনাকে একটা ধারণা দিলাম।

আর্টিকেলটি ভাল লাগলে শেয়ার করবেন।
ধন্যবাদ !

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here