ব্যাকলিংক কি? কিভাবে এসইও ব্যাকলিংক তৈরি করতে হয়?

2
599
ব্যাকলিংক-কি-কিভাবে-এসও-ব্যাকলিংক-তৈরি-করতে-হয়

গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েব সাইট নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন এস ই ও। শুধু seo করলেই হয় না সাথে বড় বড় ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করতে হয়। লিংক বিল্ডিং এসইও করার ক্ষেত্রে একটি বড় অবদান রাখে। ব্যাকলিংকের মধ্যে ডু-ফলো ব্যাকলিংক সবচেয়ে ভালো মানের আর এটা করতে পারলে আপনি অনলাইন জগতে দ্রূত সফল হতে পারবেন এবং হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এসইও ব্যাকলিংক তৈরি করে ওয়েবসাইটকে গুগলে র‍্যাংক করার জন্য বেশির ভাগ ব্লগার এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররাই অনেক কষ্ট করে থাকে। তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক পাওয়ার জন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর আর্টিকেল এবং বিনিময় তার লিংক বিল্ডিং করছে।

কারণ এটা আমরা সবাই জানি যে উচ্চ গুনসম্পন্ন ব্যাকলিংক তৈরি কর‍তে পারলে ওয়েবসাইট গুগল র‍্যাংকিং এ খুব দ্রুত চলে আসে। কিন্তু High Quality link Building তৈরি করতে বেশির ভাগ ব্লগার এবং ওয়েবসাইট ওনারাই ফেইলার হয়ে যায় যার জন্য একটা সময় তারা হতাশ হয়ে যায় এবং এই ব্লগিং ক্যারিয়ার থেকে তারা সরে পরে।

ব্যাকলিংক-তৈরি

ব্যাকলিংক কি ? ব্যাকলিংক হচ্ছে একটি External Link যেটা কোনো একটি ওয়েবসাইট আপনার সাইটের সাথে লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হয়। আপনি যদি ভালো কোনো নামকরা ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক তৈরি করতে  পারেন তাহলে আপনার সাইট দ্রুত গুগলে র‍্যাংক হবে এবং প্রচুর পরিমাণে ভিজিটর পাবেন।

আপনি যদি ভাল মানের ব্যাকলিংক পেতে চান ওয়েবসাইটের জন্য এবং কন্টেন্টেকে দ্রুত গুগল র‍্যাংকিং এ নিয়ে আসতে তাহলে আজকে এই আর্টিকেলটি আপনাকে দারুণ ভাবে সহযোগিতা করতে যাচ্ছে।

কারণ আজকে আমি আমার ব্যাক্তিগত এক্সপেরিয়েন্স থেকে ছয়টি উপায় বলবো High Quality Backlink Building করার জন্য। এই উপায় গুলো সঠিক ভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করলে ব্লগিং ক্যারিয়ারে আপনি একটা উন্নতি দেখতে পাবেন। তাহলে চলুন কিছু উপায় আপনাকে এখন বলে দিচ্ছি।

১। অতিথি লেখক

অতিথি লেখক ব্লগিং একটা এভারগ্রিন পদ্ধতি ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য। অতিথি লেখক ব্লগিং ব্যাপারটি আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি- আপনি একজন গেস্ট রাইটার হিসাবে অন্যান্য মানুষদের ওয়েবসাইটে লেখা-লেখি করবেন।

ধরুন পাঁচজন মানুষ ব্লগিং করছে প্রত্যেকেরি একটা করে ওয়েবসাইট আছে এবং তাদের ওয়েবসাইটে তারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা-লেখি করছে আপনিও সেই পাঁচজনের মধ্যে একজন এবং আপনিও দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন টপিকের উপরে ব্লগিং করছেন আর্টিকেল পাবলিশ করছেন ঠিক এই কাজটাই আপনি অন্যান্য ব্লগারদের ওয়েবসাইটে আর্টিকেল পাবলিশ করবেন।

ব্যাকলিংক-তৈরি-করা

আপনি একজন গেস্ট ব্লগার হিসাবে অন্যান্য যে ওয়েবসাইট মালিকরা আছে তাদের ওয়েবসাইটর কন্টেন্ট পাবলিশ করবেন। এইযে বাকি চারজন মানুষ আছে যাদেরও চারটি ওয়েবসাইট আছে তাদের ওয়েবসাইটের যে রিডাররা বা ভিজিটররা আছে তাদের জন্য উপকার হয় এমন একটা Topic বেঁছে নিয়ে তাদের ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট পাবলিশ করতে পারেন।

এজন্য আপনি যে ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট পাবলিশ করতে চান সেই ওয়েবসাইটের মালিকদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। প্রত্যেকটা ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করার জন্য কন্টাক্ট ফর্ম দেওয়া থাকে ই-মেইল অ্যাড্রেস দেওয়া থাকে। এই উপায় গুলোর মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করবেন এবং তাদেরকে জানাবেন যে আপনি তাদের ওয়েবসাইটে কাজ করতে চান আপনার দক্ষতা শেয়ার করতে চান বা আপনার লেখা কোনো আর্টিকেল তাদের ব্লগে বা রিডারদের সাথে শেয়ার করতে চান।

যখনই আপনার লেখা Article অন্যান্য ওয়েবসাইটে পাবলিশ করছেন তখন অথর বায়ো সেকশনে আপনার একটি ব্যাকলিংক বিল্ডিং করার অপরচিউনিটি তৈরি হবে। বেশির ভাগ ওয়েবসাইট ওনাররা বা ব্লগাররাই অথর বায়োতে গেস্ট ব্লগারদেরকে ব্যাক লিংক দিয়ে দেয়। এই ভাবে আপনি যত খুশি তত High Quality link Building করতে পারেন ওয়েবসাইটের জন্য। এইযে একজন ওয়েবমাস্টার বা ওয়েবসাইট মালিক আরেক জনের ওয়েবসাইটে লেখা-লেখি করছে এই বিষয়টাকেই বলা হয় Guest Blogging.

২। প্রোফাইল ব্যাকলিংক

প্রোফাইল ব্যাকলিংক কি? অনলাইনে হাজার লক্ষ ওয়েবসাইট আছে যেই ওয়েবসাইট গুলোতে রেজিস্ট্রেশন করে আপনি একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন এবং সেই অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল পেইজে গিয়ে আপনার সমস্ত ইনফরমেশন যুক্ত করতে পারেন যেমন- আপনার নাম, জন্ম তারিখ, ওয়েবসাইটের ইউআরএল আপনি কি করছেন ইত্যাদি।

সবচেয়ে বড় একটা উদাহরণ হচ্ছে ফেইসবুক-এখানে আপনি যদি একটা পেইজ তৈরি করেন তাহলে সেই পেইজের About Section বিভিন্ন ধরনের ইনফরমেশন যুক্ত করতে পারবেন। ঠিক ইউটিউবেও একই ভাবে প্রোফাইল ব্যাকলিংক দিতে পারেন।

প্রোফাইল-ব্যাকলিংক

টুইটারের ক্ষেত্রেও তাই আপনি চাইলে সেখানেও অ্যাবাউট সেকশনে গিয়ে Website Link যুক্ত করতে পারেন। এছাড়াও অনলাইনে আরো লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট আছে প্রোফাইল ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য। আর ওই ধরণের সাইট গুলোকে খুঁজ বের করার জন্য গুগলে গিয়ে সার্চ করতে পারেন Profile Backlink Site List এই কিওয়ার্ডটি দিয়ে।

গুগলে সার্চ করলে আপনি শত শত সাইট লিস্ট দেখতে পাবেন। এই সাইট গুলো ভিজিট করুন এবং প্রত্যেকটার লিংক আপনার ডকুমেন্টে সেভ করে রাখুন। এবং সেই ওয়েবসাইট গুলোতে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য প্রোফাইল ব্যাকলিংক তৈরি করতে পারেন। তবে এখানে আমি একটা Topic বলে দিচ্ছি সেটা হচ্ছে গণহারে সবগুয়লো ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেই প্রোফাইলে আপনার ওয়েবসাইটের লিংকটি দিবেন না।

আপনার ওয়েবসাইটে যে টপিকের উপর কাজ করছেন সেই টপিক রিলেটেড ওয়েবসাইট গুলো খুঁজে বের করুন। হয়ত এই শত শত ওয়েবসাইটেরে মধ্যে পাঁচটা দশটা ওয়েবসাইট খুঁজে পাবেন যে ওয়েবসাইট গুলো আপনার টপিকের সাথে মিল আছে।

শুধু মাত্র সেই ওয়েবসাইট গুলোতেই Profile Backlink তৈরি করবেন। হাবিজাবি সমস্ত ওয়েবসাইটে ব্যাকলিংক তৈরি করবেন না এতে করে বিপরীত হয়ে যাবে। র‍্যাংকিং এ তো আসবেই না বরং আপনার এসইও র‍্যাংকিং আরো হারিয়ে যাবে।

৩। ফ্রি কন্টেন্ট বা গিফট

ডু-ফলো-ব্যাকলিংক-কি

আপনি যদি কোনো কিছু পেরে থাকেন যেমন- গ্রফিক্স ডিজাইন, কোডিং (Graphics Design, Coding) তাহলে কিন্তু আপনি বিভিন্ন ধরণের পণ্য তৈরি করতে পারেন। না পারলেও কাউকে হায়ার করে আপনার ব্লগের জন্য করিয়ে নিতে পারেন এবং সেই কন্টেন্ট গুলোকে ওয়েবসাইটে ফ্রিতে ডাউনলোডের জন্য দিয়ে দিতে পারেন আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটররা জেন সেগুলো ডাউনলোড করে তাদের প্রজেক্টে ব্যবহার করতে পারে।

আপনি কোন ধরণের টপিক নিয়ে কাজ করবেন সেই বিষয় সংশ্লিষ্ট পণ্য পাবলিশ করতে পারবেন সেটা একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন এবং খুঁজে বের করুন কিছু ফ্রি প্রোডাক্ট আইডিয়া। হয় নিজে পণ্য তৈরি করুন বা অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস আছে ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস যেখান থেকে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি করিয়ে নিতে পারবেন ব্লগের জন্য। এবং সেগুলো আপনার ওয়েবসাইটে দিতে পারেন পাঠকদেরকে সহযোগিতা করার জন্য এতে করে ভাল মানের ব্যাকলিংক পাবেন।

অনেকেই আপনের এই ফ্রি পণ্য গুলো তাদের বিভিন্ন প্রজেক্টে ব্যবহার করবে। এবং তাদের যে Friend Circle আছে যাদের এগুলো প্রয়োজন হতে পারে বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপ বিভিন্ন জায়গায় আপনার ওয়েবসাইটের লিংক গুলো তারা শেয়ার করবে। এতে করে অটোমেটিক্যালি হাইকুয়ালিটি ব্যাকলিংক পাবেন। তাই আপনের টপিক রিলেটেড এমন কিছু করার চেষ্টা করুন যেটা ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের উপকারে আসবে।

৪। অগিম ডু-ফলো ব্যাকলিংক

ডুফলো-ব্যাকলিংক

আপনার ওয়েবসাইটে অন্যান্য যে ওয়েবসাইট মালিকরা আছে যাদের টপিক আপনার সাথে রিলেটেড তাদেরকে আপনার ওয়েবসাইট থেকে অগিম ডু-ফলো ব্যাকলিংক দিয়ে দিন। তাদেরকে জিজ্ঞেসও করার কোনো দরকার নাই তাদের সাথে যোগাযোগ করারও দরকার নাই তাদেরকে অ্যাডভান্স আপনার কন্টেন্টের মধ্যে ব্যাকলিংক দিয়ে দেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট গুলোতে একটা ফিচার আছে যেটার নাম হচ্ছে Pingback । আপনাকে কেউ যদি ব্যাকলিংক দেয় এবং ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট থেকে একটা Notification পাবেন। ঠিক একই ভাবে যখন অন্যান্য ওনারদেরকে ব্যাকলিংক দিবেন তারাও একটা নোটিফিকেশন পেয়ে যাবে।

এতে করে একটা দারুণ অপরচিউনিটি তৈরি হয় এবং তারাও যখন পরবর্তিতে বিভিন্ন ধরণের Content পাবলিশ করবে সেই কন্টেন্টের মধ্যে আপনাকে এসইও ব্যাকলিংক দেওয়ার একটা অপরচিউনিটি তৈরি হবে। এই কৌশল অনেকেই ফলো করে না কিন্তু আমি বলব যদি অনলাইনে সফল হতে চান তাহলে এই Strategy গুলো অবশ্যই ব্যবহার করবেন।

৫। টেস্টিমনিয়াল

অন-পেজ-এসইও

অনলাইনে আপনি যখন কাজ করছেন তখন বিভিন্ন সময় আপনার বিভিন্ন Product কেনার প্রয়োজন হতে পারে বা সফটওয়্যার প্রোডাক্ট বিভিন্ন ধরণের টুলস কিনতে প্রয়োজন হতে পারে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য। যেই কোম্পানি গুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন প্রোডাক্ট কিনবেন তাদেরকে টেস্টিমনিয়াল দিন। প্রত্যেকটা কোম্পানি চায় তাদের কাস্টমারের কাছ থেকে Feedback পেতে। যে প্রোডাক্টটি কিনবেন বা কিনেছেন সেটার সম্পর্কে একটা পজেটিভ রিভিউ দিন।

একজন কাস্টমার হিসাবে আপনি তাকে বলুন যে প্রোডাক্টটা আপনাকে কত দারুন ভাবে সহযোগিতা করেছে। এই রিভিউ যখন দিবেন তখন সেই কোম্পানি আপনার রিভিউটি তাদের ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবে আপনার ওয়েবসাইটের লিংকসহ।

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গেলেই দেখবেন তাদের ওয়েবসাইটে কাস্টমারের ফিডব্যাক থাকে বা টেস্টিমনিয়াল এবং সেই ফিডব্যাক গুলো লক্ষ্য করলে দেখবেন ছবিসহ কিছু টেক্সট এবং ওয়েবসাইটের Link Added করা থাকে। তো এটা একটা দারুন উপায় এসইও ব্যাকলিংক তৈরি করার জন্য।

৬। রিসোর্স পোস্ট

প্রত্যেকেরই বিভিন্ন ধরণের রিসোর্সের প্রয়োজন যদি ডিজাইনিং শিখতে জান তাহলে ডিজাইনিং রিলেটেড বিভিন্ন ধরণের রিসোর্সের প্রয়োজন হবে। আপনি যদি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বা কোডিং শিখতে জান এই কোডিং রিলেটেড বিভিন্ন ধরণের Resources Tools আপনার প্রয়োজন হবে। ঠিক একই ভাবে আপনি যদি ব্লগিং শুরু করতে চান তাহলে এই ব্লগিং এর জন্য বিভিন্ন ধরণের রিসোর্সের প্রয়োজন।

অফ-পেজ-এসইও

আপনি একটা কথা চিন্তা করুন আপনার যখন বিভিন্ন Resource Required হয় তখন বিভিন্ন মানুষকে জিজ্ঞেস করেন এটা কোথায় পেতে পারি ওইটা কোথায় পেতে পারি এতে অনেকেই আপনাকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটেরে লিংক দিয়ে দেয়।

ঠিক একই ভাবে আপনের ওয়েবসাইটে যখন এই ধরণের রিসোর্স পোস্ট থাকবে আপনার এই পোস্ট গুলোকেও আপনার ভিজিটররা তদের অন্যানা ফ্রেন্ডসার্কেল সাথে শেয়ার করবে বিভিন্ন জায়গায়। সো অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে রিসোর্স পোস্ট করুন যেগুলো আপনার ট্রাফিকদের সাহায্য করবে।

2 COMMENTS

  1. অনেক চমৎকার একটি পোষ্ট লিখেছেন তবে আমার একটি প্রশ্ন প্রোফাইল ব্যাকলিংক গুলো কেমন কাজে দেয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here