মজিলা ফায়ারফক্সের ডাউনলোড লিংক (উইন্ডোজ, ম্যাক, লিনাক্স, অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস)

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের জন্যে যেমন মজিলা ফায়ারফক্সের ডাউনলোড লিংক রয়েছে, তেমনি রয়েছে ম্যাক ও লিনাক্সের জন্যেও। এছাড়া, যারা স্মার্টফোনে ফায়ারফক্স ইউজ করতে চান, তাদেরকেও হতাশ করছে না মজিলা কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি তাদের এই ফ্রি ওয়েব ব্রাউজারটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইএস উভয় অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোনের জন্যেও ডেভেলপ ও রিলিজ করেছে।

একই সাথে, প্রতিনিয়তই মজিলা ফায়ারফক্সের দরকারী অ্যাড-অন রিলিজ দিচ্ছে মজিলা কর্পোরেশন এবং থার্ড পার্টি কোম্পানীগুলো। এইসব অ্যাড-অন ব্রাউজারটিকে আরো ব্রিলিয়ান্ট করে তুলছে। কাজেই, যারা এই ব্রাউজার ব্যবহার করেন, তাদের ব্রাউজিং এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই সহজ হয়ে উঠছে দিন দিন।

উইন্ডোজের জন্যে Dave Hyatt ও Blake Ross এর তৈরি মজিলা ফায়ারফক্স রিলিজ দেয়া হয় ২০০৪ সালের ৯ই নভেম্বর। আর এর আফডেট ভার্সণ রিলিজ হয় চলতি বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ২২শে অক্টোবর।

মজিলা ফায়ারফক্সের ডাউনলোড লিংক

মজিলা ফর উইন্ডোজ

২০০৬ সালে মজিলা কর্পোরেশন তাদের এই জনপ্রিয় ব্রাউজারটির লিনাক্স ডেস্কটপ ভার্সণ নিয়ে বাজারে আসে। প্রথমে ৩০ বিট মেমোরি আর্কিটেক্সার এবং পরে ৬৪ বিট মেমোরির জন্যে রিলিজ দেয়া হয় ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের জন্যে বহুল ব্যবহৃত এই ব্রাউজারটি।মজিলা ফর লিনাক্স

আর ২০০৮ সালে এটির ম্যাক ভার্সণ রিলিজ দেয়া হয়। এরপর সকল অপারেটিং সিস্টেমের জন্যেই ব্রাউজারটি বহু বার আপডেট দেয়া হয়।মজিলা ফর ম্যাক

২০১০ সালের জানুয়ারীর ২৮ তারিখে বাজারে আসে ব্রাউজারটির অ্যান্ড্রয়েড ভার্সণ। অর্থাৎ, গুগলের প্লে-স্টোরে এটি সব স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর জন্যেই উন্মুক্ত করা হয়। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের জন্যে ব্রাউজারটিকে আরো গতিশীল হিসেবে ডেভেলপ করে মজিলা কর্পোরেশন।

মজিলা ফাউন্ডেশনের মতে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্র্যাকার স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করে থাকে। যারফলে প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্ডয়েড ভার্সণটিকে পুরোপুরি হ্যাকার প্রটেক্ট করার জন্যে প্রাইভেটলি ডেভেলপ করেছে। প্রতিষ্ঠানের মতে, ২ হাজারেরও বেশি ট্র্যাকারের হাত থেকে ইউজারকে রক্ষা করে তাদের এই ব্রাউজার।মজিলা ফর অ্যান্ড্রয়েড

২০১৩ সালের এফ্রিল মাসে মজিলা কর্পোরেশনের সিইও Gary Kovacs ঘোষণা দেন যে তারা তাদের এই ব্রাউজারটির আইওএস ভার্সণ রিলিজ করবেন না। অ্যাপলের ওয়েবকিট লে-আউট ইঞ্জিন সংক্রান্ত নানা রকম সমস্যা সমাধানের পর অবশেষে ২০১৬ সালে মজিলা আইওএস এর জন্যে ব্রাউজারটির অ্যাপ নিয়ে আসে।মজিলা ফর আইওএস

সকল অপারেটিং সিস্টেমের জন্যেই মজিলা ফায়ারফক্সের ডাউনলোড লিংক পেয়েছেন। আশা করি, আপনার প্রয়োজনীয় অপারেটিং সিস্টেমে ব্রাউজারটি ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে গিয়ে কোন রকম সমস্যার সন্মুখীন হননি। যদি হয়েই থাকেন, তবে কমেন্ট করে আমাদের জানান; আমরা আপনাকে মজিলা ফায়ারফক্স সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যার সমাধান দেবো, ইনশাল্লাহ্।

মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের ৯টি সুবিধা ও ২টি অসুবিধা

মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের সুবিধা-অসুবিধা দুটিই আছে। কিন্তু মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট খোলার কোন অসুবিধা নেই বরং অসুবিধা কোন কোন ক্ষেত্রে হবে সেটা নির্ভর করে আপনার ব্যবহারের উপর। আপনি কোন কাজে আপনার মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন তার উপর নির্ভর করবে এর সুবিধা এবং অসুবিধা।

মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট হল গুগল আকাউন্টের মত। গুগল অ্যাকাউন্ট দিয়ে আপনি যেমন গুগলের এবং অ্যান্ড্রোয়েডের সেবা সূমহ ব্যবহার করার সুযোগ পান। একইভাবে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে আপনি তাদের অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ এবং মাইক্রোসফটের অন্যান্য সেবা ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।

আজকের লেখায় আমরা আলোচনা করবো মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার এবং উইন্ডোজ পিসিতে ব্যবহার করলে আপনি কি কি সুবিধা পাবেন আর অসুবিধার সন্মুখীন হবেন। তার আগে জেনে নিন মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট কি ও কেন প্রয়োজন? আর সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে সম্পূর্ণ লেখাটি খুব ধৈর্য সহকারে পড়ে নিতে হবে।

মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের সুবিধা-অসুবিধা

মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের সুবিধা

উইন্ডোজ অ্যাপ স্টোর

মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থাকলে আপনি উইন্ডোজ ১০ এ থাকা তাদের অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করতে পারবেন। তাদের অ্যাপ স্টোরে যে শুধু অ্যাপ থাকে তা নয়, বরং গেম, ই-বুক, গান এবং মুভিও রয়েছে। সুতরাং এসব সুযোগ সুবিধা যদি আপনি ব্যবহার করতে চান, তবে একটি মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

বিল্ট ইন অ্যাপ ব্যবহার

উইন্ডোজ ১০ এ বেশ কিছু বিল্ট ইন অ্যাপ রয়েছে যেমন গ্রুভ মিউজিক, মুভিজ এন্ড টিভি, ম্যাপ, পিপল ইত্যাদি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এসব অ্যাপে যদি আপনি মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করেন, তবে এসব অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে।

বিশেষ ভাবে বলতে গেলে, গ্রুভ মিউজিকে যদি আপনার অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করেন, তবে আপনার ক্রয় করা গান এবং আপলোড করা গান, পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে শুনতে পারবেন।

সেটিং সিঙ্ক

আপনি যখন উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করেন, তখন স্বাভাবিকভাবে ডিফল্ট সেটিংকে আপনার ইচ্ছামত পরিবর্তণ করে নেন। এখন আপনি যদি আপনার পিসিতে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট সাইন ইন করে রাখেন, তবে আপনার সেটিংগুলো আপনার অ্যাকাউন্টে ব্যাক আপ থাকবে। সুতরাং, নতুন করে যখন আবার পিসি সেটআপ দিবেন, তখন সেই সেটিং রিস্টোর করতে পারবেন।

ওয়ান ড্রাইভ

ক্লাউড ড্রাইভের সুবিধার কথা নতুন করে কিছু বলার নেই। আমাদের ব্যক্তিগত হার্ড ডিস্কে থাকা ফাইল যে কোনো সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে ক্লাউড ড্রাইভে থাকলে তা নষ্ট হবার সম্ভাবনা খুব কম। এছাড়া ক্লাউড ড্রাইভে ফাইল থাকলে যে কোনো সময় অ্যাক্সেস করা সম্ভব।

আর আপনার যদি মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে আপনি ফ্রিতে পাবেন ৫ জিবি জায়গা আর টাকা খরচ করে এটা আরও বৃদ্ধি করতে পারবেন, যদি প্রয়োজন মনে করেন।

ইমেইল

মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থাকার আরেকটি সুবিধা হল আপনি একটি ফ্রি ইমেইল পাবেন। এই ইমেইল আপনি Hotmail কিংবা Outlook দুটি ডোমেইনই ব্যবহার করতে পারবেন।

স্কাইপ

স্কাইপ মাইক্রোসফট ২০১১ সালে কিনে নেয়ার পর এই সেবাটি ব্যবহার করতে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হয়। স্কাইপের সবগুলো সুবিধা উপভোগ করতে হলে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থাকাটা জরুরি। স্কাইপের মাধ্যমে আপনি যেমন অ্যাপটি দিয়ে ফ্রি কথা বলতে পারবেন, পাশাপাশি টাকা খরচ করে আপনি যে কোনো মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়েও কথা বলতে পারবেন।

মাইক্রোসফট অফিস

মাইক্রোসফট অফিসের কথা নতুন করে কিছু বলার নেই, কমবেশি সবাই এটা ব্যবহার করেছেন। আপনি যদি আপনার মাইক্রোসফট অফিসে অ্যাকাউন্ট সাইন ইন করেন, তবে আপনার ফাইল এবং সেটিং ব্যাক আপ করে রাখতে পারবেন।

কর্টনা

কর্টনা মাইক্রোসফটের একটি এআই ফিচার। অর্থাৎ, এটাতে রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।  কর্টনা আপনার হয়ে আপনার ডিভাইস ব্যবহার করতে সক্ষম। যেমন, আপনি যদি বলেন হেই কর্টনা একটা গান চালু করো তো, দেখবেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে গান চালু হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আপনার আর হাত ব্যবহার করতে হবে না। আর এই কর্টনার সুবিধা পেতে হলে আপনার মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থাকা জরুরি।

এক্সবক্স

এক্সবক্স হল গেমারদের জন্য। আপনি যদি একজন গেমার হন এবং আপনার গেমিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে চান, তবে এক্সবক্সে আপনার অ্যাকাউন্ট যোগ করতে হবে।

মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের অসুবিধা

গোপনীয়তা

মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই আসবে এর গোপনীয়তার নীতিমালা নিয়ে। এই অ্যাকাউন্ট আপনার পিসিতে সাইন ইন করা থাকলে আপনার তথ্য নিরাপদ থাকবে কিনা এ নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

তাদের গোপনীয়তার নীতিমালাতে খুব স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে যে, আপনি যখন আপনার অ্যাকাউন্ট সাইন ইন করবেন, তখন তারা আপনার ডিভাইসের ডাটা, সময় এবং আইপি অ্যাড্রেস সংগ্রহ করবে। এছাড়া আপনার সাইন ইন নাম, ব্যক্তিগত কিছু তথ্য, অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার তথ্য সংগ্রহ করবে।

আবার, আপনি যদি স্যোশাল মিডিয়াতে এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন, তবে তাদের সার্ভারে আপনার স্যোশাল মিডিয়ার বেশ কিছু তথ্য সংরক্ষণ করে রাখার অধিকার রাখে তারা।

নিরাপত্তা

ডিজিটাল যে কোনো সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রায় সকল ডিজিটাল সেবার মধ্যেই নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। হ্যাকাররা যে কোনো সময় আপনার তথ্য হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ রাখে।

আপনি যদি আপনার মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট আপনার কোন ডিভাইসে ব্যবহার করেন, আর আপনার অ্যাকাউন্ট যদি কখনো হ্যাক হয়ে যায়, তাহলে আপনার অনেক স্পর্শকাতর তথ্য হয়তো হ্যাকারদের হাতে চলে যাবে। যদি মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের অধীন নয় বরং আপনার উপরেও অনেকগুলো বিষয় নির্ভর করে।

শেষ কথা

এই ছিল আজকে সংক্ষিপ্তভাবে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা। সুবিধা যদিও অনেক, তবে সবার শেষে থাকা দুটি অসুবিধার কথাও অবশ্যই মাথায় রাখবেন, আশা করি।

ল্যাপটপ কেনার সময় যে ১০টি বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিৎ

ল্যাপটপ কেনার সময় কম বেশী সবাই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকেন। কষ্টের টাকা দিয়ে আসলে সঠিক ল্যাপটপটি পছন্দ করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। ল্যাপটপ কারও জন্য শখের আর কারও জন্য কাজের।

শখের জন্যে হোক কিংবা কাজ করার জন্য হোক, ল্যাপটপ কেনার সময় অবশ্যই কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। শুধু ব্র্যান্ড আর ডিজাইন দেখে ল্যাপটপ কিনলে আপনাকে পরে পস্তাতে হতে পারে।

তাই, ল্যাপটপ কেনার আগে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো প্রয়োজন। তার আগে অবশ্য জানা প্রয়োজন কেন আপনার একটি ল্যাপটপ থাকা দরকার। এখানে ৯টি কারণ দেখানো হয়েছে যেগুলোর জন্যে যে কারো জন্যে একটি ল্যাপটপ থাকা দরকার। আশা করি, লেখাটি পড়ে নিশ্চিত হয়েছেন কি কারণে আপনার ল্যাপটপ প্রয়োজন।

পারফেক্ট ল্যাপটপটি নির্বাচন করার জন্য অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আজকের এই লেখায় আমি সে-সব বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করবো। আশা করি, ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে এসব বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

ল্যাপটপ কেনার সময় বিবেচনাধীন বিষয়

উদ্দেশ্য

উদ্দেশ্য ছাড়া কোন কাজেই সফল হওয়া যায় না। ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রেও উদ্দেশ্য থাকতে হবে। আপনার উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করবে ল্যাপটপ পছন্দ করার পরবর্তী ধাপগুলো। আপনি যদি শুধু শখের বসে ল্যাপটপ ক্রয় করতে চান, তাহলে এক ধরণের বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আর আপনি যদি সাধারণ কাজের জন্য ক্রয় করতে চান, তাহলে আবার অন্য ধরণের বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা আপনি যদি গ্রাফিক্স কিংবা ভিডিও এডিটিংয়ের মত বড় বড় কাজ করতে চান, তবে আপনার ল্যাপটপ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

বাজেট

আপনার উদ্দেশ্য যখন নির্দিষ্ট করবেন, তারপরের ধাপ হলো বাজেট নির্ধারণ করা। সাধারণ কাজের জন্য সাধারণত ৩৫ হাজারের নিচে অনেক ভাল ল্যাপটপ পাওয়া যায়। কিন্তু যদি প্রফেশনাল কাজের ক্ষেত্রে ল্যাপটপ ব্যবহার করতে চান, তবে অবশ্যই বাজেট ৪০ হাজারের উপরে হতে হবে। তাই আগেই বাজেট নির্ধারণ করে নিন, যাতে পরে সমস্যা না হয়।

প্রসেসর

ল্যাপটপের জন্য প্রসেসর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রসেসর সম্পর্কে যদি কোন ধারণা না থাকে, তাহলে জেনে নিন প্রসেসর কি আর এটি কিভাবে কাজ করে। প্রসেসরের উপর আপনার ল্যাপটপের স্পিড এবং আপনার চাহিদা পূরণের বিষয়টি নির্ভর করে। বাজারে সাধারণত ২ কোম্পানির প্রসেসর পাওয়া যায়। যথা:

  • ইন্টেল
  • এএমডি

এসব প্রসেসরের আবার বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। প্রফেশনাল কাজের জন্য ল্যাপটপ ক্রয় করতে চাইলে অবশ্যই লেটেস্ট প্রসেসরটি নির্বাচন করার চেষ্টা করবেন।

র‌্যাম

আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে র‌্যাম কি আর এটি কিভাবে কাজ করে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ল্যাপটপের জন্য। আপনি যদি প্রফেশনাল এবং হাই স্পিডের ল্যাপটপ চান, তবে অবশ্যই বেশী র‌্যামের ল্যাপটপ নির্বাচন করে নিবেন। আর দেখে নিবেন ল্যাপটপে পরবর্তীতে র‌্যাম ব্যবহারের জন্য আলাদা স্লট রয়েছে কিনা। আলাদা স্লট থাকলে আপনি পরে আবার চাইলে আলাদা র‌্যাম কিনে লাগিয়ে নিতে পারবেন।

হার্ড ড্রাইভ

হার্ড ড্রাইভ হল আপনার ল্যাপটপের স্টোরেজ। আপনার ফাইলগুলো মূলত এই হার্ড ড্রাইভে থাকবে। বাজারে ২ ধরনের হার্ড ড্রাইভ পাওয়া যায়। যথা:

  • এইচডিডি
  • এসএসডি

এইচডিডি দামে সস্তা কিন্তু স্লো আর এসএসডি দাম বেশী কিন্তু ফাস্ট। আপনার ল্যাপটপ যদি এসএসডি হয়, তবে তো খুব ভাল আর না থাকলেও সমস্যা নেই। কেননা এইচডিডি দিয়ে আপনি অনায়াসে যে কোনো কাজ করে নিতে পারবেন। তবে দেখে নিবেন এসএসডি লাগানোর জন্য আলাদা অপশন আছে কিনা।

হার্ড ড্রাইভ কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই এর সাইজ দেখে নিবেন। চেষ্টা করবেন ১ টেরাবাইটের হার্ড ড্রাইভ কেনার।

গ্রাফিক্স কার্ড

যারা প্রফেশনাল কাজ করবেন কিংবা গেম খেলবেন তাদের জন্য গ্রাফিক্স কার্ড অনেক বেশী জরুরি। এটা ছাড়া আপনার ল্যাপটপের আট আনাই বৃথা হবে। এটা আপনার কাজের গতিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে। যদিও ল্যাপটপে বিল্ট ইন গ্রাফিক্স কার্ড থাকে, যা দিয়ে অনায়াসে সাধারণ কাজগুলো চালিয়ে নেয়া যায়। তবে প্রফেশনাল বা গেমার হলে দেখে নিবেন ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড আছে কিনা।

ব্যাটারি

যেহেতু মানুষ ল্যাপটপ ক্রয় করে এর পোর্টাবিলিটির জন্যে এবং যে কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য, তাই ল্যাপটপের ব্যাটারি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ল্যাপটপ ক্রয় করে যদি ডেস্কটপের মত সারাদিন বিদ্যুতের সাথে প্লাগ ইন করে রাখতে হয়, তাহলে ল্যাপটপ কিনে লাভ হবে কি।

তাই ল্যাপটপ কেনার সময় অবশ্যই এর ব্যাটারির পারফরমেন্স দেখে নিবেন। ব্যাটারি কত অ্যাম্পিয়ার, কত ঘণ্টা ব্যাকআপ দিতে পারবে, এ-সব বিষয় জেনে নিবেন।

ডিজাইন এবং ওজন

ল্যাপটপ নিয়ে অফিস, ট্রাভেল কিংবা বিভিন্ন জায়গায় যাবেন, তাই এর ডিজাইন যেমন আকর্ষণীয় হওয়া চাই, পাশাপাশি এর ওজনও কম হওয়া চাই। বেশী ওজনের ল্যাপটপ বহন করা কঠিন। আর ডিজাইনের দিকে দিয়ে যদি আকর্ষণীয় না হয়, তাহলে ব্যবহার করে শান্তি পাবেন না।

ব্র্যান্ড

ব্র্যান্ড শব্দটি সবার নিকট পরিচিত। বাজারে অনেক ব্রান্ডের ল্যাপটপ রয়েছে। এবার আপনি সেখান থেকে পছন্দের ব্রান্ড নির্বাচন করে নিন। ব্রান্ডের ক্ষেত্রে আবার কিছুটা পার্থক্য দেখা যায় অ্যাপেলের ম্যাক-বুকে। আপনার যদি অ্যাপেলে আকর্ষণ থাকে, তাহলে ম্যাক-বুকের প্রতি আপনি সুদৃষ্টি দিতে পারেন। মাথায় রাখবেন ম্যাক-বুকের অপারেটিং সিস্টেমের কিন্তু ম্যাকওএস। ম্যাকওএস চালাতে পারলে এই দিকে নজর দিতে পারেন।

ওয়ারেন্টি

ওয়ারেন্টি কত দিনের এবং চার্জার বা অন্যান্য যন্ত্রাংশের জন্য আলাদা ওয়ারেন্টি রয়েছে কিনা তা অবশ্যই দেখে নিতে হবে। কেননা ল্যাপটপ যে কোনো সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

শেষ কথা

এই ছিল আজকে ল্যাপটপ কেনার সময় করণীয় কিছু কাজ সম্পর্ক সংক্ষিপ্ত আলোচনা। উপরে আমরা সবচেয়ে জরুরি ১০টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এর বাহিরেও অনেক বিষয় রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করা হয়নি। আপনার নিকট যদি মনে হয় কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়ে গিয়েছে, তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন।

প্রসেসর কি? প্রসেসর কিভাবে কাজ করে?

কম্পিউটার কিংবা স্মার্টফোনের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে প্রসেসর শব্দটি জড়িত। কেননা প্রসেসর ছাড়া কোন স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটার চলবে না। তাই কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটি সম্পর্কে প্রত্যেকের ধারণা থাকা জরুরি।

প্রসেসর কম্পিউটারের মস্তিষ্ক। মানুষের মস্তিষ্ক যেমন সকল অঙ্গকে নির্দেশ দিয়ে কাজ করায়, কম্পিউটারের প্রসেসর একইভাবে কাজ করে। যাই হোক, আজকে আমরা এই প্রসেসর নিয়ে আলোচনা করবো।

প্রসেসর নিয়ে বই কিংবা ইন্টারনেটে কম বেশী সব জায়গায় লেখা আছে। তাই, আজকে আমি গতানুগতিকভাবে নয়, বরং বাস্তব জীবনের সাথে তুলনা করে প্রসেসর সম্পর্কে সহজভাবে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো। তার আগে প্রসেসরের দাম ও পরিচিতি জেনে নিতে পারেন। এতে সহজেই বুঝতে পারবেন কোন প্রসেসর ভাল আর আপনি ঠিক কোনটি কিনবেন?

প্রসেসর কি?

বই পুস্তকের ভাষায় প্রসেসর হল সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা CPU। কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ করার সকল কাজ এই যন্ত্রাংশটি করে থাকে। ১৯৭১ সালে ইন্টেল কোম্পানি ৪০০৪ নামে একটি মাইক্রো প্রসেসর বাজারজাত শুরু করে। এই প্রসেসরগুলো সিলিকনের উপর হাজার হাজার ট্রানজিস্টারের সমন্বয়ে তৈরি করা।

সময়ের সাথে সাথে প্রসেসর বিবর্তন হওয়া শুরু করে। বর্তমানে সুপার কম্পিউটারের জন্যেও প্রসেসর রয়েছে যা অনেক দ্রুত কাজ করতে সক্ষম। বর্তমানে কম্পিউটারের জন্যে জনপ্রিয় ২টি প্রসেসর প্রস্তুতকারী কোম্পানি হল যথাক্রমে:

  • ইন্টেল
  • এএমডি

আর স্মার্টফোনের জন্য-

  • কোয়ালকম
  • মিডিয়াটেক

প্রসেসর কিভাবে কাজ করে?

এবার আসুন জানা যাক প্রসেসর কিভাবে কাজ করে। বাস্তব একটি উদাহরণ দেই, ক্রিকেটের ব্যাটসম্যান যখন ব্যাট করার জন্য দাঁড়ায় এবং অপর ভাগ থেকে যখন দ্রুত গতিতে বল করা হয়, তখন ব্যাটসম্যান কিন্তু খুব দ্রুত ঠিক করে ফেলে যে, বলটা এখন কোন এঙ্গেলে কিভাবে খেলতে হবে। আর এই হিসাব নিকাশটা কিন্তু মস্তিষ্ক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে করে ফেলে।

একইভাবে কম্পিউটারের সিপিউ এইভাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হিসাব নিকাশ করে ফেলে। যেমন, এখন আপনি হৈচৈ বাংলার লেখাটি পড়তে পড়তে নিচে স্ক্রল করছেন আর এই যে মাউস কিংবা টাচ করে স্ক্রল করতে কম্পিউটার বা মোবাইলকে যে নির্দেশ দেয়া হল, সেই নির্দেশটা কিন্তু প্রসেসর পালন করেছে। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার ফলাফল আপনাকে দেখিয়ে দিয়েছে।

কম্পিউটারের কাজগুলোর এই নির্দেশ যায় ০ ও ১ এর মাধ্যমে। অর্থাৎ, ০ মানে বন্ধ আর ১ মানে হল চালু। আর এর প্রত্যেকটিকে ১ বিট হিসাবে ধরা হয়। কম্পিউটারকে যখন ০ নির্দেশ করা হয়, তখন প্রসেসরের কোটি কোটি ট্রানজিস্টারের কোন একটি বন্ধ হয়ে যায় আবার ১ দিলে চালু হয়ে যায়।

এই নির্দেশ কিন্তু আপনি মাউস কিংবা কিবোর্ড দিয়ে দিচ্ছেন। আর নির্দেশগুলো অনেক সময় বাক্য আকারে যায়। যেমন, আমরা মানুষেরা বলি, “যাও বাজার নিয়ে আসো”। অথচ কম্পিউটারকে এটা বোঝানোর উপায় হল ১০০১০০১১। যাই হোক, এ নিয়ে পরে অন্য কোন সময় আলোচনা করা যাবে। এবার চলুন জানা যাক, প্রসেসরের এই কাজগুলো সম্পাদন করার ধাপ ও প্রক্রিয়ার নাম সম্পর্কে।

কোর

কোর অনেকটা মানুষের হাতের মত। মানুষের হাত তো ২টা, এখন এই ২টা হাত দিয়ে যা কাজ করবে, এখন যদি ৪টা হয়, তাহলে তো আরও দ্রুত কাজ করতে পারবে। একইভাবে, কম্পিউটারের কোর এই কাজটি করে। যদিও মানুষের হাত সংখ্যা বাড়ানো যায় না, তবে কম্পিউটারের কোর সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়। সাধারণত ৫ ধরনের কোর দেখা যায়। যথা:

  • ডুয়েল কোর – ২ টি কোর
  • কোয়াড কোর – ৪টি কোর
  • হেক্সা কোর – ৬টি কোর
  • অকটা কোর – ৮টি কোর
  • ডেকা কোর – ১০টি কোর

কোর বৃদ্ধি পেলে আপনি একসাথে অনেকগুলো কাজ করতে পারবেন। যেমন, মিউজিক প্লেয়ারে গান চালু করে আপনি অনায়াসে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু, যদি ১টি কোর থাকে, তবে গান চালু করে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গেলে যে কোনো একটি বন্ধ হয়ে যাবে।

ক্লক স্পিড

প্রসেসরের বক্সে দেখবেন লিখা আছে 2.3 GHz বা 3.4 GHz অথবা অন্য কিছু। আসলে এই স্পিডটাই হল ক্লক স্পিড। প্রসেসর প্রতি সেকেন্ডে কতবার হিসাব নিকাশ করতে পারে, তার পরিমাণ এই ক্লক স্পিড দিয়ে চেক করা হয়। এটা প্রসেসরের স্পিড নির্দেশ করে। এটা যত বেশী হবে, আপনার কম্পিউটার তত দ্রুত রেসপন্স করতে পারবে।

ক্যাশ মেমোরি

কম্পিউটারের যে-সব কাজ বারবার করতে হয়, সে-সব কাজ এই ক্যাশ মেমোরিতে জমা রাখে। ক্যাশ মেমোরিতে জমা রাখার ফলে একই কাজ ২য় বার করতে গেলে দ্রুত হয়। সাধারণত ৮ এমবি পর্যন্ত ক্যাশ মেমোরি দেখা যায়।

FSB

প্রসেসরের সব তথ্য ক্যাশ মেমোরিতে থাকে না, অধিকাংশ তথ্য র‌্যামে থাকে। আর র‌্যামের সাথে প্রসেসর কত দ্রুত যোগাযোগ করতে পারছে, সেটা FSB দ্বারা বোঝা যায়। কিন্তু, বর্তমানের প্রসেসরগুলোতে এটার পরিবর্তে QPi ব্যবহার করা হয়।

32-bit আর 64-bit

পূর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম যে কম্পিউটার বাইনারি পদ্ধতিতে কাজ করে। যেখানে প্রতিটি বাইনারিকে বিট হিসাবে ডাকা হয়। আর এই বিটগুলো একসাথে কে কত বেশী সংখ্যায় ক্যালকুলেশন করতে পারে, সেটা নির্দেশ করে 32-bit আর 64-bit। স্বাভাবিকভাবে 64-bit দ্রুত হিসাব করতে পারে, তাই এটা ফাস্টও কাজ করবে।

শেষ কথা

এই ছিল প্রসেসর নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আমরা চেষ্টা করেছি প্রসেসর কিভাবে কাজ করে তা বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে আলোচনা করার, যাতে করে আপনারা খুব সহজে বুঝতে পারেন। আশা করি প্রসেসর নিয়ে আপনারা নতুন কিছু জেনেছেন।

ওয়েব ডিজাইন এবং SEO, এ দুটো জানা থাকলে ইন্টারনেট থেকে হাজার উপায়ে আয় করা সম্ভব [গুজব নয়, সত্যি!]

বাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা এত বেশি যে বলে হয়তো শেষ করা যাবে না। বাদাম ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনে ভরপুর একটি খাবার। যদিও বাদামে ক্যালরি এবং চর্বির পরিমাণ বেশি, তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বাদামে থাকা বেশিরভাগ ফ্যাটই হচ্ছে মনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাট যা দেহের জন্যে ক্ষতিকর নয়।

বাদামে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে। বিশেষ করে, বাদামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে। এছাড়া, রয়েছে ওমেগা ৬ এবং ওমেগা ৩ পলি আন-স্যাচুরেটেড ফ্যাট। বুঝতেই পারছেন যে, ভিটামিনে ভরপুর বাদাম আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি খাদ্য।

বাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

বিভিন্ন রকমের খাদ্য রিসার্স থেকে বাদামের বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে, হার্ট ডিজিজ বা হৃৎপিন্ডের রোগ থেকে এটি আমাদের রক্ষা করে থাকে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বাদাম কেন বেছে নিবেন, জেনে নিন-

১. বাদাম ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

আমাদের ত্বকে নানা ধরণের ক্যান্সার হয় আর বাদাম প্রায় সব ধরণের ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে। তবে, সব বাদাম নয়, বিশেষ করে ব্রাজিল বাদাম। বর্তমানে ব্রাজিল বাদাম খুবই পরিচিত তার পুষ্টিগুণে। মূলত ব্রাজিলে এর উৎপত্তি বলে এটি ব্রাজিল বাদাম নামেই পরিচিত।

ব্রাজিল বাদামে রয়েছে ভিটামিন-এ, ই, এবং প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট। ব্রাজিল বাদামে ক্যালরি- ১৮৪ গ্রাম, প্রোটিন- ৪.৩ গ্রাম এবং চর্বি- ১৯ গ্রাম। তাছাড়া ব্রাজিল বাদামে উচ্চ সেলেনিয়াম রয়েছে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকার। সেলেনিয়াম এক ধরনের খণিজ যা আমাদের দেহ থেকে উৎপন্ন করা যায় না। খাবার গ্রহণের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। দেহের জন্য পর্যাপ্ত সেলেনিয়াম পেতে কয়েকটি ব্রাজিল বাদাম যথেষ্ট। তাছাড়া সেলেনিয়াম দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

এন্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের ত্বকের কোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে যা ব্রাজিল বাদামে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। ব্রাজিল বাদামে থাকা চর্বি শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ভালো উপাদান ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে খুবই কার্যকরী। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং লালচে ভাব দূর করতে সহায়তা করে। মসৃণ ত্বক পেতে ব্রাজিল বাদাম নিয়মিত খেতে পারেন।

২. বাদাম চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

বাদামে চুল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ রয়েছে। ব্রাজিল বাদাম এক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর। ব্রাজিল বাদাম ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি চুলের জন্য খুবই উপকারী।

চুলের আগা ফাটা রোধ, চুল বৃদ্ধি এবং নতুন চুল গজাতে ভিটামিন-ই কাজ করে। ভিটামিন-ই শারীরিক সহনশীলতা বজায় রাখে। তাছাড়া ব্রাজিল বাদাম ব্রণের সমস্যাও দূর করে থাকে। নিয়মিত ব্রাজিল বাদাম খেলে চুল এবং ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যজ্জ্বল। কাজেই, বাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা বলতে গেলে চুলের বৃদ্ধির কথা বলতেই হয়।

৩. বাদাম স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে

বয়সের সাথে সাথে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে থাকে। আর স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে বাদাম খুবই উপকারী। এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন কাজু বাদাম। ১০০ গ্রাম কাজুতে রয়েছে ৫৫৩ কিলো ক্যালরি। কাজুর খণিজ উপাদানগুলো আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামে সমৃদ্ধ। তাই এটি শরীরে বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের প্রবণতা কমিয়ে দিবে।

এছাড়া কাজুতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এবং জিঙ্ক রয়েছে। যা স্মরণশক্তি বাড়ায়। কাজু বাদাম শ্বাসকষ্ট এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও সহায়তা করে থাকে।

৪. বাদাম ওজন কমায়

অতিরিক্ত ওজন যাদেরকে চিন্তায় ফেলে রাখে সর্বক্ষণ, তাদেরকে বলি চিন্তা বাদ দিয়ে প্রতিদিনের ডায়েট চার্টে যোগ করুন বাদাম। এ ক্ষেত্রে বেছে নিন কার্যকরী পিক্যান বাদাম। ১ টি পিক্যানে রয়েছে ১৯৩ গ্রাম ক্যালরি! তাছাড়া পিক্যান বাদামে চর্বি – ২০ গ্রাম, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার শরীরের সঠিক খাদ্য গ্রহণে কাজ করে।

এন্টিআক্সিডেন্ট সম্পন্ন শীর্ষ ১৫টি খাবারের মধ্যে পিক্যান অন্যতম একটি। পিক্যানে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে। পিক্যানের জন্ম আমেরিকা এবং ম্যাক্সিকোতে। শরীরের ঘেরলিন হরমোনকে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে পিক্যান। ঘেরলিন হরমোন শরীরে ক্ষুদা বাড়ায়। আর সঠিকভাবে শরীরকে নিয়ন্ত্রিত করে পরিমিত খাদ্য গ্রহণে সহায়তা করে থাকে পিক্যান বাদাম। তাই, কম সময়ে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে পিক্যান বাদাম খুবই কার্যকর।

৫. বাদাম পিরিয়ডের সমস্যা দূর করে

পিরিয়ডের সময় সাধারণত নারীদের মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। কিছু খেতেও ভালো লাগে না। তলপেটে ব্যাথা থাকে। বাদাম, বিশেষত পিক্যান বাদাম ক্যালসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি পিরিয়ড সময়ে খেলে কোমরের ও তলপেটের ব্যাথা কমায়। মন সতেজ রাখে।

নারীদের শরীরের জন্য, বিশেষত বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন রকম পরিবর্তণে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খুবই প্রয়োজন। পেস্তা বাদামও পিরিয়ডের সমস্যা সমাধানের জন্য উপকারী। তাই, নিয়মিত পিক্যান ও পেস্তা বাদাম খেলে নারী স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকার পাওয়া যায়।

৬. বাদাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে বাদাম নিঃসন্দেহে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। শর্করাযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত চর্বি, ফাইবার এবং প্রোটিন রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করতে সহায়তা করে বিভিন্ন ধরণের বাদাম। বাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা বা রোগ নিয়ন্ত্রণের কথা যদি বলেন তো ডায়াবেটিসের কথা বিশেষভাবেই বলতেই হয়।

এর মাঝে কাজু বাদাম ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ। কাজু বাদাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এই বাদামটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী। তাছাড়া হাড়ের ক্ষয় রোধ, হৃদযন্ত্র এবং মস্তিষ্ক সচল রাখতিও বিশেষ ভূমিকা পালন করে কাজু বাদাম।

৭. বাদাম সুষম হরমোন গঠনে সহায়তা করে

হরমোন আমাদের শরীরের গঠন এবং বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকে। তাই, হরমোন ঠিক রাখা খুবই জরুরি। পেস্তা বাদামে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন – এবং ফাইবার। পেস্তা বাদাম ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের হরমোন সুষম এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া, দুটি এন্টি-অক্সিডেন্ট যুক্ত পেস্তা বাদাম চোখের ব্যাকটেরিয়া সমস্যা সমাধানে দারুণ কাজ করে।

৮. বাদাম ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক

ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে বাদাম অনন্য ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে আখরোট খুবই উপকারী। আখরোটে ওমেগা-৩ এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড রয়েছে। আখরোটে এন্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ খুবই বেশি যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

তাছাড়া হৃদযন্ত্রের সমস্যা সমাধানে স্ট্রোক প্রতিরোধ করে আখরোট। তাছাড়া, যারা তৈলাক্ত মাছ এড়িয়ে যেতে চান, তারা বিকল্প হিসাবে আখরোট বেছে নিতে পারেন।

৯. বাদাম কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে

বাদাম আপনার শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে, আপনি বেছে নিতে পারেন পাইন বাদাম। পাইন বাদামে রয়েছে অতিরিক্ত ফ্যাটি এসিড যা মস্তিষ্ক সচল রাখতে সাহায্য করে। এগুলোতে গাছের স্টেরল এবং স্ট্যানল রয়েছে যা খারাপ কোলেস্টেরল হ্রাস করতে এবং দেহে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।

পাইন বাদামে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এটি মেজাজ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। তাই, বাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা হিসেবে কোলেস্টেরলের নিয়ন্ত্রণের কথা বলতেই হবে।

১০. বাদাম শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে

বাদাম প্রচুর পরিমানে প্রোটিনে ভরপুর। প্রোটিন আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করতে প্রোটিনের বিকল্প নাই। তাই, প্রোটিনযুক্ত খাবারের তালিকায় বাদামকে প্রথম সারিতে রাখতে পারেন।

সব ধরণের বাদামেই শক্তি বৃদ্ধিকারক উপাদান রয়েছে। তবে, পিক্যান বাদামে ভিটামিন-৩ রয়েছে যা বিশেষভাবে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি করে, ধমনী শক্ত করে এবং ক্লান্তি দূর করে।

১১. বাদাম বহুমাত্রিক সমস্যার সমাধান করে

বাদাম এমন একটি খাবার যাকে বলা হয় একসাথে বহু সমস্যার সমাধানকারক। বাদামকে বলা হয় এন্টিঅক্সিডেন্টের প্রধান উৎস। শরীরের কোষ সুরক্ষা দিতে এন্টিঅক্সিডেন্টের প্রয়োজন। কোষকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে বাদাম প্রয়োজনীয় একটি খাদ্য।

বাদামে রয়েছে প্রদাহজনক বিরোধী বৈশিষ্ট্য যা শরীরে আঘাত, ব্যাকটেরিয়া, বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু থেকে নিজেকে রক্ষা করে। তাছাড়া এটি বাত এবং হতাশা কাটাতে সাহায্য করে। হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় বাদাম। বাদামে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে যা রোগের ঝুঁকি কমায়। রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। প্রতিদিনের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে।

১২. বাদাম হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার যা আমাদের খাবার হজম করতে খুবই কার্যকরী। খাওয়ার তারতম্যের জন্য খাবার হজম না হলে শরীরে অশান্তি সৃষ্টি হয়। অন্যান্য বাদামের তুলনায় কাঠ বাদামে ফাইবারের পরিমাণ বেশি। হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে কাঠ বাদাম খুবই উপকারী। কাঠ বাদামে রয়েছে প্রচুর ফাইবার যা হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া ভিটামিন-এ, ই, বি-১,বি-৬ এবং প্রোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর কাঠ বাদাম।

শেষ কথা

বাদামের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনেছেন। বাদাম কতটা প্রয়োজনীয় আমাদের শরীরের জন্য তা বুঝতে পেরেছেন। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন, আপনি বাদাম খেয়ে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। তাই, সঠিক খাদ্য তালিকায় বেছে নিতে পারেন ব্রিলিয়ান্ট খাদ্য বাদাম।

12 Ways You Can Absolutely Make Money Online

For many people, making money online would be an absolute dream come true. If they could find a way to make money with a website or some other online venture, they could quit their job to focus on entrepreneurship, spend more time with their family, and finally take back control of their time and their lives.

The crazy thing is, earning money online isn’t a pipe dream. I have been doing it for nearly a decade now with my website Good Financial Cents. I also know thousands of other people who are earning money online their own way with websites, courses, or unique marketing strategies.

Now, here’s the good news. The majority of online revenue strategies aren’t that complicated. Like any business venture, your online income takes time to grow. You need to be willing to devote the time and energy required to get your idea off the ground, and you need grit to stick with it even if your journey is slow when you first start out.

If you’re angling to earn money online but aren’t sure where to start, here are several of the best and most realistic strategies to consider:

#1: Google Adsense

Today In: Investing

If you’ve visited any website, you’ve seen Google ads. These ads are everywhere, and for good reason. Not only are they easy to set up on any basic website, but they can be lucrative once your website starts bringing in a steady amount of traffic.

One of the cool things about Google AdSense is that it’s so easy to get set up. If you have a blog or website, you can sign up for a free Google AdSense Account. From there, Google will give you a unique code that you will paste onto your website. Google takes it from there, tracking your page views, traffic, and earnings on your behalf. There is no upkeep or maintenance to get this thing going, which makes it a no-brainer if you have a website already.

PROMOTED

How much will you make? I think my best month with Google AdSense was almost $5,000 over the last ten years. That amazing month blew my mind since it was actually near the beginning of my blogging journey. When you go from making zero to $5,000 in a month, that will rock your world. For me, it also got me even more excited because I knew there were other ways to monetize.

#2: Affiliate Marketing

Whether you have a website or are still dreaming up ideas for a blog, you can also look into affiliate marketing. With affiliate marketing, you partner with brands and businesses within the content of your website. If you mention a product or service, you link to that produce or service using a unique affiliate code you received when you signed up for that particular affiliate program. From there, you’ll make money any time someone buys a product or service through your link.

Generally speaking, you’ll want to partner with affiliates that are related to your blog concept. Since I’m a financial advisor, I have focused a lot of my affiliate energy on financial products like savings accounts, credit cards, and investment accounts.

In addition to signing up for individual affiliate programs, you can also sign up for an affiliate ad network that offers a ton of different affiliates in one place. That way, you can see what works and what doesn’t work over time.

If you’re looking for inspiration, my friend Michelle Schroeder-Gardner of the website Making Sense of Sense has become the expert on all things affiliate marketing. Michelle earns more than $100,000 per month from her blog and the bulk of her income comes from affiliate sales. Michelle has had so much success with affiliate marketing that she even has her own course called Making Sense of Affiliate Marketing.

While Michelle works with a ton of affiliates in the financial services industry, one of her biggest affiliates is a blog hosting company called Bluehost. This just goes to show that you can make money with nearly any affiliate company or product if you know your audience and build up enough traffic to create sales.

#3: Consulting

Another way to make money online is via consulting. If you’re an expert in any field, you could potentially find people willing to pay you to counsel them on their personal or business goals. You might think you’re not important enough to consult for big companies, but you could be surprised at the types of expertise people will pay for.

My colleague Robert Farrington of The College Investor is a good example of someone who consulted online on the side in an unlikely industry. Robert told me that, after he had been blogging for a few years, a couple of brands reached out to him to ask him for help with social media and online marketing.

Robert said he did an average of 4-6 of these gigs per year for a while depending on his schedule and the work involved. The best part is, he charged a flat rate that usually worked out to around $100 per hour. And remember, this was pay he was earning to advise people on the best ways to use social media tools like Facebook and Pinterest to grow their brands.

If you want to start consulting but aren’t sure what steps to take next, you can also set up a free account through Clarity.fm. This website lets anyone who wants to offer consulting set up a free profile. Once your profile is set up, people will find you and book a session you’ll get paid for.